* শিক্ষা * শান্তি * প্রগতি

* জয় বাংলা * জয় বঙ্গবন্ধু

শিরোনাম:

চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালিত বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল প্রেস বিজ্ঞপ্তি আপোষহীন মহানায়ক বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটনের দাবিতে ছাত্রলীগের মৌন মিছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল তারেক রহমান: শোভন প্রেস বিজ্ঞপ্তি জাতির পিতার রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে ‘ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ আখ্যা জাতীয় শোক দিবসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ “সেই কালো রাত এবং বঙ্গবন্ধু” বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে: কাদের কক্সবাজারকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে কোরবানি পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করলো জেলা ছাত্রলীগ শোক দিবসে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রাণের মানুষদের সমাধিতে গোলাপের পাপড়ি ছড়ালেন শেখ হাসিনা ১৫ ই আগষ্টের খুনি ও ২১ শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে যশোর ছাত্রলীগের মানববন্ধন আজ পিতা হারানোর শোকে কাঁদবে বাঙালি “সেই কালো রাত এবং বঙ্গবন্ধু” আগস্টের শোক হোক বাঙালির শক্তি আগস্টের শোক হোক বাঙালির শক্তি

‘স্বাধীনতা, তুমি আমার অহংকার’

২৬ মার্চ, ২০১৯, ৮:৪৪ প্রিন্ট

আজ ২৬ শে মার্চ, বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রীতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাজজ্ঞের পর ২৬ মার্চ এর প্রত্যুষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া বেতার বার্তায় স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময় এবং ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর আমরা পাই কাঙ্ক্ষিত বিজয়।

আমাদের স্বাধীনতা এমনিতে আসেনি, আসেনি সমাবেশ থেকে, বৈঠক থেকে কিংবা জোড় করে। আমাদের স্বাধীনতা আমরা কিনেছি রক্ত দিয়ে, ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের দামে কেনা এই বাংলা।

১৯৪৭-এ দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান থেকে কেন স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়? ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসনামলে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকে প্রকট। প্রতি বছর মোট জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দ হয় পশ্চিম পাকিস্তানের জন্যে। পাকিস্তানের মূল শাসক গোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানি। পশ্চিমা শাসকেরা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণে জনমনে ক্রমশ ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। তাছাড়া জনসংখ্যার হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তর অংশ হওয়া সত্ত্বেও দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তান কুক্ষিগত করে রাখে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনসাধারণ, সব সম্প্রদায়ের মানুষ (হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান) একত্র হয়ে এক অখণ্ড বাঙালি জাতিতে পরিণত হয়েছিল। তিনি সুকৌশলে ধাপে ধাপে আমাদেরকে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবির মধ্যে স্বাধীনতার পূর্বাভাস খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯৬৯-৭০-এর গণঅভ্যুত্থানে সেটা এক দফা অর্থাত্ স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার বিখ্যাত ভাষণে বাংলার জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। দেশবাসীকে ডাক দিয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম… ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।’ পাকিস্তানের জাঁদরেল সামরিক শাসকদের নাকের ডগায় বাস করে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করার সপক্ষে এর চেয়ে বলিষ্ঠ ও পরিষ্কার আহ্বান আর কী হতে পারত সে সময়? বস্তুত আমাদের মুক্তিযুদ্ধ তো তখন থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হঠাত্ করে কোনো সেনাপতি বা সমরনায়কের ডাকে শুরু হয়নি। এটি ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। এ আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষনের পর গ্রামে পাড়া মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন হতে শুরু করে, ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাপিয়ে পড়লে শুরু হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। গ্রামে শহরে সমস্ত জায়গায় ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসা বীর যোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কে নাতানাবুদ করে ছাড়ে। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে বুক চেতিয়ে লড়ে গেছে বাংলার দামাল সন্তানেরা। ৩০ লক্ষ মানুষের রক্ত ও ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিমিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের অহংকার। স্বাধীনতার এই দিনে আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্বরন করছি দেশমাতৃকার রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়া সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, আপনাদের অসিম সাহসের জন্য এই বাংলায় আজ মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারি।


গোলাম রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

পাঠকের মতামত:

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে